বিহারের ঐতিহ্যবাহী সুজনি এমব্রয়ডারির আখ্যান

Spread the love

বিহারের ঐতিহ্যবাহী সুজনি এমব্রয়ডারির সম্পূর্ণ গাইড। গ্রামীণ নারীদের সুখ-দুঃখের গল্প কীভাবে সুতোর টানে কাপড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে, তার ইতিহাস ও বুননশৈলী সহজ ভাষায় জানুন।

Read this in – English/हिन्दी/मैथिली

আমাদের ভারতের প্রতিটি রাজ্যের লোকশিল্পের পেছনে জড়িয়ে থাকে সাধারণ মানুষের যাপনচিত্র। বিশেষ করে বিহারের গ্রামীণ নারীদের হাতের কাজ বিশ্বজুড়ে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। তেমনই একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং আবেগপূর্ণ শিল্প হলো ‘সুজনি এমব্রয়ডারি’ (Sujani Embroidery)। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই শিল্পটি নারীদের আত্মপ্রকাশের এক মস্ত বড় মাধ্যম। আজ Vunavya-র এই বিশেষ ব্লগে আমরা আলোচনা করব বিহারের এই চমৎকার হস্তশিল্পের ইতিহাস, এর বুননশৈলী এবং কাপড়ের ওপর গল্প ফুটিয়ে তোলার এক অদ্ভুত মেকানিক্স নিয়ে।

১: সুজনি শিল্পের ইতিহাস — পুরনো কাঁথা থেকে জিআই ট্যাগ

‘সুজনি’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে দুটি শব্দের মেলবন্ধনে— ‘সু’ অর্থাৎ সহজ বা সুন্দর, এবং ‘জনি’ অর্থাৎ জন্ম। মূলত এটি নবজাতক শিশুদের আরাম দেওয়ার জন্য তৈরি এক ধরণের বিশেষ কাঁথা ছিল।

  • সংস্কৃতির বুনন: প্রাচীনকালে বিহারের মুজফফরপুর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নারীরা ঘরের পুরনো সুতির শাড়ি বা ধুতি স্তরে স্তরে সাজিয়ে নরম লেপ বা কাঁথা তৈরি করতেন। সুতরাং, এটি ছিল সম্পূর্ণ সাস্টেইনেবল বা রিসাইকেলড ফ্যাশনের এক প্রাচীন রূপ। বর্তমান যুগে এই কাজটিকে শাড়ি, ওড়না এবং কুর্তিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ভারত সরকারের জিআই ট্যাগ (GI Tag) প্রাপ্তি এই গ্রামীণ শিল্পকে আজ বিশ্ববাজারে এক রাজকীয় মর্যাদা দিয়েছে।

২: বুননশৈলী ও মোটিফ — কাপড়ের ক্যানভাসে জীবনের গল্প

সুজনি এমব্রয়ডারির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর সেলাইয়ের ধরণ এবং মোটিফ বা নকশার মধ্যে। এটি দেখতে সাধারণ কাঁথা সেলাইয়ের মতো মনে হলেও এর কারিগরি মেকানিক্স বেশ আলাদা।

  • রানিং স্টিচের জাদু: এই শিল্পে মূলত দুই ধরণের সেলাই ব্যবহার করা হয়। প্রথমত, কাপড়ের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করার জন্য সূক্ষ্ম ‘রানিং স্টিচ’ বা সোজা সেলাই দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, মূল নকশাটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য চেইন স্টিচ বা ভরাট সেলাই ব্যবহার করা হয়।
  • নারীদের সুখ-দুঃখের গল্প: সুজনি এমব্রয়ডারির মোটিফগুলো কেবল ফুল বা লতাপাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং গ্রামীণ নারীরা তাঁদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ, পাখি, গাছপালা এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতার গল্প সুতোর টানে কাপড়ে ফুটিয়ে তোলেন। ফলে প্রতিটি সুজনি শাড়ি বা ওড়না এক একটি জীবন্ত ক্যানভাস হয়ে ওঠে।

উপসংহার

বিহারের সুজনি এমব্রয়ডারি আমাদের শেখায় কীভাবে সাধারণ সুতো আর সুচ দিয়ে জীবনের গভীরতম অনুভূতিগুলোকে কাপড়ের বুকে অমর করে রাখা যায়। এর প্রতিটি ছোট ছোট সেলাই যেন এক একজন গ্রামীণ শিল্পীর নীরব সাধনা। এই অমূল্য সাবেকি ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে এবং আমাদের মাটির পিছনপড়ো কারিগরদের পাশে দাঁড়াতে Vunavya সবসময় গর্বের সাথে কাজ করে চলেছে।

Shopping Cart
Scroll to Top